কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ??? বাংলা হাদিস অনুবাদ

Sharing is caring!

আসসালামু আলাইকুম… আমাদের ইসলামিক ওয়েবসাইট – বাংলা হাদিস এবং আল কোরআন এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন । আমাদের  ইসলামিক ওয়েবসাইট এর আজকের পোস্ট  এ আমরা “কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ?” এই বিষয় সম্পর্কে জানবো ।

আমাদের ইসলামিক ব্লগ এর মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন আপনাদের সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক হাদিস এর বাংলা অনুবাদ শেয়ার করবো। একই সাথে, অনেক ছোট ছোট দোয়া এবং আমল রয়েছে, যা পাঠ করার মাধ্যমে আপনারা অনেক অনেক আমল এবং নেকী লাভ করতে পারবেন। আমরা চেষ্টা করি যেন আপনাদের নিকট সেই সকল ছোট ছোট দোয়া এবং আমল পৌঁছে দিতে পারি। তাহলে, আপনারা সেই সব নেক আমল পাঠ করার মাধ্যমে অনেক অনেক নেকী লাভ করতে পারবেন।

কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন

আমাদের আজকের বিষয়

কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ???

হযরত ওমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, হে খাত্তাবের বেটা ! যাও লোকদের মধ্যে এই ঘোষণা করিয়ে দাও যে, জান্নাতে শুধু ঈমানদারগণই প্রবেশ করিবে।

(মুসিলম)

হযরত আবু লায়লা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবু সুফিয়ানকে) এরশাদ করিয়াছেন, হে আবু সুফিয়ান, তোমাদের অবস্থার উপর আফেসাস, আমি তো তোমাদের নিকট দুনিয়া ও আখেরাত (এ কল্যাণ) লইয়া আসিয়াছি। ইসলাম কবুল করিয়া লও , নিরাপদ হইয়া যাইবে।

(তাবরানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ)

হযরত আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরশাদ করিতে শুনিয়াছি যে, যখন কেয়ামতের দিন হইবে তখন আমাকে সুপারিশ করার ইজাযত দেওয়া হইবে। আমি আরজ করিব, হে আমার রব! এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তিকে জান্নাতে দাখিল করিয়া দিন যাহার অন্তরে সরিষার দানা পরিমানও (ঈমান) রহিয়াছে। (আল্লাহ তায়ালা আমার এই সুপারিশ কবুল করিবেন।) আর ঐ সমস্ত লোক জান্নাতে দাখিল হইয়া যাইবে। পুনরায় আমি আরজ করিব, এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তিকে জান্নাতে দাখিল করিয়া দিন যাহার অন্তরে সামান্য পরিমানও (ঈমান) রহিয়াছে।

(বোখারী)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হইতে বণির্ত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যখন জান্নাতীগণ জান্নাতে ও দোযখীরা দোযখে চলিয়া যাইবে তখন আল্লাহ তায়ালা বলিবেন, যাহার অন্তের সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান রহিয়াছে,  তাহাকেও জাহান্নাম হইতে বাহির করিয়া লও। সুতরাং, তাহাদেরকেও বাহির করা হইবে। তাহাদের অবস্থা এইরূপ হইবে যে, জ্বলিয়া কালো বর্ণ হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তাহাদেরকে নহরে হায়াতে ফেলা হইবে। তখন তাহার এমনভাবে (মুহুর্তের মধ্যে সজীব হইয়া) বাহির হইয়া আসিবে যেমন ঢলের আবর্জনাতে দানা (পানি ও সারের কারণে অতি অল্প সময়ে) অঙ্কুরিত হইয়া আসে। তোমরা কি দেখ না যে, উহা কেমন সোনালী ও কোঁকড়ানো অবস্থায় বাহির আসে?

(বোখারী)

হযরত আবু উমামা (রাযিঃ)হইতে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিজ্ঞাসা করিল, ঈমান কি? তিনি এরশাদ করিলেন, যদি তোমার নেক আমল তোমাকে আনন্দিত করে ও তোমার মন্দ কাজ তোমাকে দুঃখিত করে তবে তুমি মুমিন।

(মুসতাদরাকে হাকেম)

হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই এরশাদ করিতে শুনিয়াছেন যে, ঐ ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করিয়াছে (এবং) ঈমানের মজা সে পাইয়াছে) যে আল্লাহ তায়ালাকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রসূল হিসাবে সন্তুষ্টচিত্তে মানিয়া লইয়াছে।

(মুসলিম)

ফায়দাঃ

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার বন্দেগী এবং ইসলাম মোতাবেক আমল ও হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং ইসলামের প্রতি মহব্বতের সহিত হয় এই জিনিস যাহার ভাগ্যে জুটিয়াছে নিঃসন্দেহে সে ঈমানের স্বাদেও অংশ লাভ করিয়াছে।

হযরত আনাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, ঈমানের স্বাদ সেই ব্যক্তি পাইবে যাহার মধ্যে তিনটি বস্তু পাওয়া যাইবে। এক- তাহার অন্তরে আল্লাহ তায়ালা ও তাহার রসুলের মহব্বত সবচেয়ে বেশি হয়। দুই-যে কোন ব্যক্তির সাথেই মহব্বত হয় উহা শুধু আল্লাহর জন্যই হয়। তিন- ঈমানের পরে কুফরের দিকে ফিরিয়া যাওয়া তাহার নিকট এরূপ ঘৃণিত ও কষ্টদায়ক হয় যেরূপ আগুনে নিক্ষেপ করিলে হয়।

হযরত আবু উমামা (রাযিঃ) হইতে বণির্ত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য কাহারো সহিত মহব্বত করিয়াছে, আর তাহারই জন্য দুশমনী করিয়াছে, এবং (যাহাকে দান করিয়াছে) আল্লাহ তায়ালার জন্যই দান করিয়াছে, আর(যাহাকে দান করে নাই) আল্লাহ তায়ালার জন্যই দান করে নাই সে ঈমানকে পরিপূর্ণ করিয়াছে।

(আবু দাউদ)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু যার (রাযিঃ)কে এরশাদ করিয়াছেন, বল দেখি, ঈমানের কোন কড়াটি বেশি মজবুত? হযরত আবু যার (রাযিঃ) আরজ করিলেন, আল্লাহ এবং তার রাসূলই বেশি জানেন। (সুতরাং আপনিই বলিয়া দিন) তিনি এরশাদ করিলেন, আল্লাহ তায়ালার জন্য পরস্পর সম্পর্ক ও সহযোগিতা হয় এবং আল্লাহ তায়ালার জন্য কাহারো সহিত মহব্বত হয় এবং আল্লাহ তায়ালারই জন্য কাহারো সহিত বিদ্বেষ ও শত্রুতা হয়।

(বাইহাকী)

ফায়দাঃ

অর্থাৎ ঈমনী শাখাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্থায়ী শাখা এই যে, দুনিয়াতে বান্দা কাহারো সহিত যে কোনো আচরণ করে, চাই উহা সম্পর্ক স্থাপনের হউক বা ছিন্নকরণের হউক, মহব্বতের হোক বা শত্রুতার হোক উহা যেন নিজের নফসের চাহিদা হিসাবে না হয়, বরং শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য হয় এবং তাহারই আদেশক্রমে হয়।

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি আমাকে দেখিয়াছে এবং আমার উপর ঈমান আনিয়াছে তাহার জন্য তো একবার মোবারকবাদ।

(মুসনাদে আহমাদ)

হযরত আবু আবদুর রহমান জুহানী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসিয়াছিলাম। এমন সময় (সম্মুখ হইতে) দুইজন আরোহীকে আসিতে দেখা গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদেরকে দেখিয়া বলিলেন, ইহাদেরকে কিন্দা এবং মাযহিজ গোত্রের মনে হইতেছে। অবশেষে তাহারা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইলেন তখন তাহাদের সহিত গোত্রের আরো অন্যান্য লোকজনও ছিল। বর্ণনাকারী বলেন যে, তাহাদের মধ্য হইতে এক ব্যক্তি বাইয়াতের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হইলেন। যখন তিনি তাঁহার হাত মোবারক নিজের হাতে লইলেন তখন আরজ করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিল, আপনার উপর ঈমান আনিল এবং আপনাকে সত্য বলিযা স্বীকার করিল এবং আপনার অনুসরনও করিল, বলুন, সে কি পাইবে? তিনি এরশাদ করিলেন, তাহার জন্য মোবারক হউক। ইহা শুনিয়া সে ব্যক্তি (বরকত লওয়ার জন্য) তাঁহার হাত মোবারকের উপর নিজের হাত বুলাইল এবং বাইয়াত হইয়া চলিয়া গেল।

অতঃপর দ্বিতীয় ব্যক্তি অগ্রসর হইল। সেও বাইয়াতের জন্য তাঁহার মোবারক হাত নিজের হাতে লইয়া আরজ করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। যে ব্যক্তি আপনাকে না দেখিয়া ঈমান আনিয়াছে, আপনাকে সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়াছে এবং আপনার অনুসরণ করিয়াছে, বলুন সে কি পাইবে? তিনি এরশাদ করিলেন, তাহার জন্য মোবারক হউক, মোবারক হউক, মোবারক হউক।  উক্ত ব্যক্তিও তাঁহার হাত মোবারকের উপর নিজের হাত বুলাইল এবং বাইয়াত হইয়া চলিয়া গেল।

(মুসনাদে আহমাদ)

কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ??? বাংলা হাদিস ভিডিও

আমাদের এই ইসলামিক পোস্ট এ আমরা কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ? সম্পর্কিত যে হাদিস এর বাংলা অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি, তা আপনারা চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকেও দেখে আসতে পারেন।

আমরা নিচে কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ?   সম্পর্কিত আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিওটি আপনাদের সুবিধার জন্য দিয়ে দিয়েছি। আপনারা নিচের ভিডিওটিতে ক্লিক করে এখনই এই ইসলামিক ভিডিওটি দেখতে পারেন।

অথবা, আমাদের ইউটিউব চ্যনেল Bangla Hadis and Al Quran এ গিয়ে আমাদের ভিডিওটি দেখতে পারেন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে এই ইসলামিক ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আমাদের এই ইসলামিক পোস্টে আমরা যে সকল গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছি, তা আমরা ইসলামি বই – “মুন্তাখাব হাদিস” থেকে সংগ্রহ করেছি। আসুন আমরা এই ইসলামিক পোস্ট টি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনা করি।

গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক পোস্টসমূহঃ

কোন দোয়া পাঠ করলে চব্বিশ হাজার ফেরেশতা কেয়ামত পর্যন্ত এবাদত করিতে থাকিবে?

প্রতিদিন পাঁচ কোটি নেকী পাওয়ার বিশেষ দোয়া

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ এর ফজিলত

কবরে মুনকার নাকীরের সওয়াল জওয়াবে সাহায্য পাওয়ার উপায়

এক বছর এবাদত করার সওয়াব পাওয়ার দোয়া

কোন কাজ করলে সত্তর জন লিখক ফেরেশতা সওয়াব লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন

মহানবী (সঃ) এর ভাই কে? ইসলামিক বাংলা হাদিস

কোন তিন ব্যক্তি দ্বিগুণ সওয়াব পাইবে

তাছাড়া, আপনাদের যে কোন প্রশ্নের জন্য আমাদের সাথে এখনই যোগাযোগ করতে পারেন। [ধন্যবাদ]

Scroll to Top