কোন দোয়া পাঠ করলে চব্বিশ হাজার ফেরেশতা কেয়ামত পর্যন্ত এবাদত করিতে থাকিবে

সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি ??? ইসলামিক হাদিস বাংলা

Sharing is caring!

আসসালামু আলাইকুম… আমাদের ইসলামিক ওয়েবসাইট – বাংলা হাদিস এবং আল কোরআন এর পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন । আমাদের  ইসলামিক ওয়েবসাইট এর আজকের পোস্ট  এ আমরা “সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি ???” এই বিষয় সম্পর্কে জানবো ।

আমাদের ইসলামিক ব্লগ এর মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন আপনাদের সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক হাদিস এর বাংলা অনুবাদ শেয়ার করবো। একই সাথে, অনেক ছোট ছোট দোয়া এবং আমল রয়েছে, যা পাঠ করার মাধ্যমে আপনারা অনেক অনেক আমল এবং নেকী লাভ করতে পারবেন। আমরা চেষ্টা করি যেন আপনাদের নিকট সেই সকল ছোট ছোট দোয়া এবং আমল পৌঁছে দিতে পারি। তাহলে, আপনারা সেই সব নেক আমল পাঠ করার মাধ্যমে অনেক অনেক নেকী লাভ করতে পারবেন।

সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি
সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি

আমাদের আজকের বিষয়

সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি ???

হযরত আমর ইবনে শুয়াইব (রাযিঃ) হইতে তিনি তাঁহার পিতা হইতে তিনি তাঁহার দাদা হইতে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, এই উম্মতের সংশোধনের শুরু হইয়াছে ইয়াকীন ও দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির দ্বারা। আর উহার ধ্বংসের শুরু হইবে কৃপণতা ও দীর্ঘ আশা আকাংখার কারণে।

(বায়হাকী)

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত  আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, তোমরা যদি আল্লাহ তায়ালার উপর এমনভাবে তাওয়াক্কুল করিতে আরম্ভ কর যেমন তাওয়াক্কুলের হক রহিয়াছে তবে তোমাদিগকে এমনভাবে রুজী দান করা হইবে যেমন পাখীদেরকে রুজী দান করা হয়। উহারা সকালে খালি পেটে বাহির  হইয়া যায় এবং বিকালে ভরা পেটে ফিরিয়া আসে।

(তিরমিযী)

হযরত যাবের বিন আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত সেই জিহাদে শরীক ছিলেন, যাহা নাজদ অভিমুখে হয়েছিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ হইতে ফিরিয়া আসিলেন তখন তিনিও তাঁহার সহিত ফিরিলেন। (ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটিল) সাহাবা (রাযিঃ) দুপুরের সময় বাবলা গাছে ভরা একটি ময়দানে পৌঁছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য থামিলেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাযিঃ) গাছের ছায়ার তালাশে এদিক সেদিক ছড়াইয়া পড়িলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আরাম করিবার জন্য বাবলা গাছের নিচের জায়গা লইলেন এবং গাছের সহিত নিজের তরবারীটি ঝুলাইয়া রাখিলেন। আমরাও কিছু সময়ের জন্য (বিভিন্ন গাছের ছায়াতে) ঘুমাইয়া পড়িলাম। হঠাৎ (আমরা শুনিতে পাইলাম যে,) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ডাকিতেছেন। (যখন আমরা সেখানে পৌছিলাম) তখন তাঁহার নিকট একজন গ্রাম্য কাফের উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমি ঘুমাইতেছিলাম, এমতাযস্থায় সে আমার উপর আমারই তরবারী উত্তোলন করিয়াছে। জাগ্রত হইয়া দেখিলাম আমার খোলা তরবারীটি তাহার হাতে রহিয়াছে। সে আমাকে বলিল, তোমাকে আমার হাত হইতে কে বাঁচাইবে? আমি তিনবার বলিলাম, আল্লাহ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই গ্রাম্য লোকটিকে কোন শাস্তি দিলেন না এবং উঠিয়া বসিয়া গেলেন।

(বোখারী)

হযরত সালেহ ইবনে মিসমার ও হযরত জাফর ইবনে বুরকান (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মালেক ইবনে হারেস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে হারেস! তুমি কি অবস্থায় আছ? তিনি আরজ করিলেন (আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে) আমি ঈমানের অবস্থায় আছি। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি প্রকৃত মুমিন? তিনি আরজ করিলেন, আমি প্রকৃত মুমিন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, (চিন্তা করিয়া বলো) প্রত্যেক জিনিসের একটি হাকীকত হয়, তোমার ঈমানের হাকীকত কি? অর্থাৎ তুমি কিসের ভিত্তিতে এই দাবী করিতেছ যে, ‘আমি প্রকৃত মুমিন।’

তিনি আরজ করিলেন, (আমার কথার হাকীকত এই যে,) আমি আমার অন্তরকে দুনিয়া হইতে সরাইয়া লইয়াছি, রাত্রি জাগরণ করি, দিনের বেলায় পিপাসার্ত থাকি (অর্থাৎ রোযা রাখি) আর যখন আমার রবের আরশকে আনা হইবে সেই দৃশ্য যেন আমি দেখিতেছি। বেহেশতীদের পরস্পর দেখা সাক্ষাতের দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভাসমান থাকে। আর জাহান্নামীদের চিৎকার যেন (আমি নিজ কানে) শুনিতেছি। অর্থাৎ সর্বদা বেহেশত ও দোযখের কল্পনা বিদ্যমান থাকে। তিনি (তাহার এই কথাবার্তা শুনিয়া) বলিলেন, হারিস এমন মুমিন যাহার অন্তর ঈমানের নূর দ্বারা আলোকিত হইয়া গিয়াছে।

(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)

হযরত মায়েয (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হইল, সমস্ত আমলের মধ্যে সবোর্ত্তম আমল কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিলেন, (সমস্ত আমল এর মধ্যে সবোর্ত্তম আমল) আল্লাহর উপর ঈমান আনা, যিনি একা ।  অতঃপর জিহাদ করা, অতঃপর মকবুল হজ্জ – এই সকল আমল ও অন্যান্য আমলের মধ্যে ফযিলতের দিক হইতে এই পরিমাণ ব্যবধান রহিয়াছে যে পরিমাণ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে দূরত্বের ব্যবধান রহিয়াছে।

(মুসনাদে আহমাদ)

সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি ??? ইসলামিক হাদিস ভিডিও

আমাদের এই ইসলামিক পোস্ট এ আমরা সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি ? সম্পর্কিত যে হাদিস এর বাংলা অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি, তা আপনারা চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকেও দেখে আসতে পারেন।

আমরা নিচে সমস্ত আমল এর মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি ?   সম্পর্কিত আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিওটি আপনাদের সুবিধার জন্য দিয়ে দিয়েছি। আপনারা নিচের ভিডিওটিতে ক্লিক করে এখনই এই ইসলামিক ভিডিওটি দেখতে পারেন।

অথবা, আমাদের ইউটিউব চ্যনেল Bangla Hadis and Al Quran এ গিয়ে আমাদের ভিডিওটি দেখতে পারেন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে এই ইসলামিক ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আমাদের এই ইসলামিক পোস্টে আমরা যে সকল গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল সম্পর্কে আলোচনা করেছি, তা আমরা ইসলামি বই – “মুন্তাখাব হাদিস” থেকে সংগ্রহ করেছি। আসুন আমরা এই ইসলামিক পোস্ট টি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনা করি।

গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক পোস্টসমূহঃ

কোন দোয়া পাঠ করলে চব্বিশ হাজার ফেরেশতা কেয়ামত পর্যন্ত এবাদত করিতে থাকিবে?

প্রতিদিন পাঁচ কোটি নেকী পাওয়ার বিশেষ দোয়া

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ এর ফজিলত

কবরে মুনকার নাকীরের সওয়াল জওয়াবে সাহায্য পাওয়ার উপায়

এক বছর এবাদত করার সওয়াব পাওয়ার দোয়া কোনটি ?

কোন কাজ করলে সত্তর জন লিখক ফেরেশতা সওয়াব লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন ?

মহানবী (সঃ) এর ভাই কে?

কোন তিন ব্যক্তি দ্বিগুণ সওয়াব পাইবে

কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ?

তাছাড়া, আপনাদের যে কোন প্রশ্নের জন্য আমাদের সাথে এখনই যোগাযোগ করতে পারেন। [ধন্যবাদ]

Scroll to Top